বাংলা

ফেসবুক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং হলুদ সাংবাদিকতা

আজকে দুপুরে এক ফ্রেন্ড একটা ছবি দিল যেখানে লেখা যে ফেসবুক নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার বন্ধ করে দিয়েছে কারন সফটওয়্যার নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরু করেছে এমন একটা ভাষায় যা ইংলিশ না। শুনে সাথে সাথে মনে হল যে এইটা হল হোক্স, আমি তো সাথে সাথে বাতিল করে দিলাম ফ্রেন্ড এর কথা। পরে টুইটারে দেখি আরেকজন এইটা পোস্ট করেছে, আমি গুগল করে দেখি পুরা ইন্টারনেট ভেসে যাচ্ছে ফেসবুকের এমন ঘটনা দেখে। মনে হল, আমি যেহেতু এই ফিল্ড এ অনেকদিন কাজ করেছি, সত্যি সত্যি এমন কিছু ঘটলে কি আমি জানতে পারতাম না? আসুন দেখে নেই কি ঘটেছে আসলে।

ঘটনার শুরুঃ

জুন মাসের ১৪ তারিখে ফেসবুক তাদের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্লগে ঘোষনা করে যে তারা একটা নতুন প্রোগ্রাম বানাচ্ছে যেই প্রোগ্রাম মানুষের মধ্যে যেমনে দামাদামি হয় সেইটা অনুকরণ করতে পারবে (এই ঘোষনা আসে এখান থেকে এবং এই প্রোগ্রামের সোর্স কোড আছে এখানে)। এই প্রোগ্রামের মেইন কাজ হল একটা অ্যারেতে থাকা এলিমেন্ট গুলা মিউচুয়ালি এগ্রিয়েবল টার্মে স্প্লিট করা। ধরুন আপনার কাছে ১০ টা বই আছে, এই বইগুলা থেকে ৩ টা আপনি আরেকজনকে দিয়ে দিবেন কিছু টাকার বিনিময়ে, এই বিনিময়টা অনুকরণ করা হল এই প্রোগ্রামের কাজ।

অতঃপরঃ

এর পরে যা হল তা মুখে না বলে একটা ছবি দিয়ে দেখাই

পুরা ইন্টারনেট এইটা নিয়ে সরগরম, বিবিসি, ফোর্বস এর মত সাইটগুলো এইটা নিয়ে রিপোর্ট করছে, প্রত্যেকটা রিপোর্ট খেয়াল করলে মজার একটা জিনিষ দেখবেন, কারো কোন সোর্স নাই। এ বলে তার থেকে শুনেছে, সে বলে আরেকজন রিপোর্ট করেছে। আসল রিপোর্টারকে কেউ ই খুঁজে পায় না। এর কারণ কি? এর কারণ দুইটা, প্রথমত, এই রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে পেজ ভিউ বাড়ানোর জন্য। দ্বিতীয়ত, সাধারন মানুষ, ইভেন যারা প্রোগ্রামার, তাদের মধ্যেও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বোঝে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সো তাদের রিপোর্ট এর ভুল পয়েন্ট আউট করে দেবার মত কেউ নাই।

আসলে যা হয়েছেঃ

ফেসবুকের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম নিজেদের মধ্যে ডিসকাশন করতে করতে একটা সাংকেতিক ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে যেইটা মানুষের বোধগোম্য না। যেমন আমি যদি আপনার সাথে চুক্তি করি আমি ৫ বার “এখানে” বলা মানে হল “আমি তোমাকে ভালোবাসি” তাহলে আমাদের আশে পাশে যারা আছে তারা কি বুঝতে পারবে কি হয়েছে? কখনোই না, এক্সাক্টলি এই জিনিষটাই হয়েছে ফেসবুকের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও। এই জন্য ফেসবুক এই প্রোগ্রাম টা বন্ধ করে দিয়েছে, কারণ তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই প্রোগ্রাম টা দিয়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ করা, প্রোগ্রাম নিজেই নিজের সাথে যোগাযোগ করুক এইটা ফেসবুকের উদ্দেশ্য ছিল না, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যারা কাজ করে তারা জানে এই ধরনের ঘটনা খুব বেশি কমন, নিউজ ওর্দি কিছুই না এইটা। গিটহাব ফলো করলে দেখতে পাবেন আগামী সপ্তাহের মাঝেই ফেসবুক এই প্রোগ্রাম প্যাচ করবে তখন সে তার ইন্টেন্ডেড কাজ করতে পারবে। প্রোগ্রামের এমন আচরণ কে কম্পিউটার সায়েন্সের ভাষায় বলে রানটাইম এরর।

শেষকথাঃ

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনেক ডেলিকেট একটা সাবজেক্ট, এইটা নিয়ে সতর্কতা থাকতে হবে অবশ্যই, কিন্তু এমন হলুদ সাংবাদিকদের জন্য সাধারণ মানুষ অতিসতর্ক হয়ে যায় যার ফল হয় উল্টা। আর আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত আমি এই হলুদ সাংবাদিকদের ধরে জেলে ভরতাম। প্রোগ্রামিং তো পারেই না, যে পারে তার মতামত নেবার প্রয়োজন ও মনে করে না। একদল অপদার্থ।

Tagged , , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *