Rant

কাতারের কামলা

কামলা বা দিনমজুর দের নিয়ে আমার কোন বিদ্বেষ নেই, তারা শ্রমের মাধ্যমে উপার্জন করছেন, নিজের যোগ্যতায়। আমি ব্যাপারটা সম্মান করি, আমার পোস্ট টুইটারে কিছু মানুষ টুইটারে নিজেদের অ-জানি-দেশের-না-জানি-কি মনে করতে শুরু করেছে এইটা নিয়ে।

হচ্ছেটা কি আসলেঃ

প্রথমে আমরা দেখে নেই কিছু রহস্যজনক টুইটার আইডি।

বাহ ২০১৪ সালে জয়েন করে আমাদের কবি ভাই সাড়ে তের হাজার ফলোয়ার পেয়েছেন।

এবার আসুন দেখে নেই এক জিনিয়াস ম্যাথমেটিশিয়ান ভাই কে যিনি তার নামের সামনে পিছনে পার্শিয়াল ইন্টিগ্রেশন ব্যবহার করেন।

ফরগিভ মি ইফ আই অ্যাম রং , কিন্তু আমার মতে ডাবল রেজিস্টার্ড পার্শিয়াল ইন্টিগ্রেশন (বুকের শহরে তুমি) = আপনি ছাগল।

কবি এবং ম্যাথমেটিশিয়ান দেখা শেষ, আমরা দেখব এখন একজন দোকানদার ভাইকে

 

তা বেচারা ভাইয়ের হয়ত ভালো কোন ক্যামেরা নাই তাই ছবির রেজ্যুলেশন বেশি না, কিন্তু ফলোয়ার জোশ। আচ্ছা উনি সম্ভবত ভালো ইংলিশ লেখেন। আমরা আরেকজনকে দেখি, ইনি ধার্মিক

তা আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? ভাই এর কোন হেডার পিকচার নাই, কিন্তু ভাই এর ফলোয়ার মাশাল্লাহ ৩০ হাজার, মারহাবা।

আমরা একটা আপুকে দেখে নেই, ইনি একটু উন্নত, এনার ক্যাটাগরি হচ্ছে “শিক্ষিত ছাগল”

ফারদার বিশ্লেষণে যাবার আগে একটা অশিক্ষিত ছাগলকে দেখে নেই

কেমন করেঃ

খুবই সহজ আসলে উত্তরটা, একটা গুগল সার্চ করিঃ

উপর্যুক্ত ফিজা আপুর দিকে লক্ষ করুন , উনি অনেক আগে থেকে টুইটারে আছেন। প্রথমে ভালোই ছিলেন। ২-৩ হাজার ফলোয়ার ছিল, নিজের মনের কথা শেয়ার করতেন, ৪-৫ শ মানুষকে ফলো করতেন, হঠাৎ করে একদিন দেখলাম তিনি আমাকে আর ফলো করেন না, ঠিক আমাকে না তাই না, উনি ১০ জনকে ফলো করেন, আর ওনার ফলোয়ার ৪০০০ জন। যাই হোক, আমি মনের ভুল ভেবে জিনিষটা ইগনোর করলাম, ওমা, ৪-৫ সপ্তাহ পরে তিনি বেশ জ্বালাময়ী রাজনৈতিক মেসেজ লেখা শুরু করলেন, সাথে আছে ধর্মের মিক্স। আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকে একটু ইনভেস্টিগেট করতে শুরু করলাম। করে দেখি কি, ওনার ফলোয়ার দের মধ্যে ৯৫ শতাংশ নন বাংলাদেশি। এবং যেই ফলোয়ার গুলা আছে, সেই ফলোয়ার গুলা প্রত্যেকেই ৪-৫ হাজার মানুষজনকে ফলো করে।

আসলে হয়েছে কি, উনি অটো ফলোয়ার লাগিয়েছেন, অটো ফলোয়ার গুলা যদি টাকা না দেয়া হয় তাহলে সবাইকে স্প্যাম করে ডি এম করে। যেহেতু উনি ছোট মনের মানুষ, তাই তিনি টাকা খরচ করতে ইচ্ছুক না (যদিও তার ফ্যামিলি লণ্ডনে থাকে, ৫ পাউন্ড তার কাছে এক কাপ কফি এর দামের সমান)। তাই তিনি তার সব পরিচিত মানুষকে আনফলো করে দিয়েছেন, দেন ফলোয়ার বাড়লে আবার ধরে ধরে ফলো দিয়েছেন। আমি অবশ্য এই ধাপে বাদ পড়েছি, তবে আমার কোন আক্ষেপ নাই। ফলোয়ার জাস্ট একটা নাম্বার, এইটা বাড়লে আমার কিছু হবে না, কমলেও আমি কেয়ার করি না।

কামলাদের বৈশিষ্ট্যঃ

  • এদের মধ্যে মব মেন্টালিটি অনেক বেশি দেখা যায়। এইটা বলতে আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি? এইটা বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে, এদের একজনের সাথে কেউ কিছু করলে দল বল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর।
  • মুখের ভাষা মাশাল্লাহ! এদের সাথে গালাগালি না করলে আপনি জানতে পারবেন না আপনি আসলে কতকিছুর বাচ্চা এবং আপনার মায়ের সাথে এরা কেমন করে সেক্স করছে। এরা সম্ভবত নির্দয় ও। কারণ যদি আপনার মায়ের সাথে সেক্স করে থাকে তাহলে তো আপনি এদেরই বাচ্চা। নিজের বাচ্চার প্রতি এমনে কেউ কেমন করে গালাগালি করতে পারে নির্দয় না হলে? ফুড ফর থট।
  • তিন নাম্বার বৈশিষ্ট্য সবথেকে মজার, এরা “কেমন আছ”, “খাইছ”, “কি কর” এইগুলা কথা বলে টুইট ভাসায় দেয়, এবং এদের প্রিয় টপিক হল অন্য মেয়ে নিয়ে কথা বলা। এর কারণ হল, একটা গবেটও বুঝতে পারবে কারো ৫০০ টুইট দিয়ে ৩০ হাজার ফলোয়ার সম্ভব না। সো টুইট স্টাফিং করার জন্য এদের এই কাজ করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
  • এরা গুড ফর নাথিং। এদের না আছে কোন বৈশিষ্ট্য, না আছে কোন স্পেশালিটি, না আছে কথা বলার দক্ষতা, না আছে স্বাভাবিক ভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা।

ফলোয়ার বেশি থাকা সবাই কি কামলাঃ

নাহ, কিছু মানুষ আছে আসলেই ডিজার্ভ করে তাদের ফলোয়ার, এমন কিছু মানুষকে দেখে নেই।

এই ভাই এর লেখার স্টাইল অনেক ভালো, এবং ইনিও কাতারের কামলাদের প্রতি ব্যাপক বিদ্বেষ পোষন করেন।

আমার মতে যদি একটা বাংলাদেশির ১ লাখ ফলোয়ার থাকা উচিত , সেইটা হল দূর্যোধন ভাই, যারা ফেসবুকে আছেন তারা সবাই জানেন দূর্যোধন কি জিনিষ।

ইনি বাংলাদেশের টপ ৫০ প্রোগ্রামার দের একজন। এনার ফলোয়ার প্রত্যেকেই ডিজার্ভড। এভরি সিঙ্গেল ওয়ান।

এই পোস্ট লেখার কারণঃ

আমরা আবার ফিরে যাই ফিজা আপুর কাছে, কাল রাতে উনি লিখেছিলেন একটা টুইট সাকিব আল হাসান এর কাজের মেয়ে নিয়ে, এবং সেই টুইট নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল, কামলা শ্রেণী লাফ দিয়ে পড়েছিল সাকিব কত খারাপ সেইটা প্রমাণ করার জন্য, পরবর্তীতে দেখা গেল, সাকিব ঠিকই কাজের মেয়েকে খেতে দিছে, মেয়ে খেয়েছে সাকিবের সাথেই, খাবার পরে দাঁড়িয়ে ছিল সাকিবের পাশে কোন কারনে। তখনই মনে হল, কামলা দের নিয়ে কিছু লিখি।

শুয়োরের বাচ্চা তোরে আমি আজ খাইছিঃ

ব্যাপার হচ্ছে, ডোমেইন আমার, হোস্টিং আমার, সার্ভার এর কন্ট্রোল আমার কাছে। আমার এই পোস্ট ফেসবুকের মত দলেবলে রিপোর্ট করে সরানো যাবে না, কমেন্ট করলেও লাভ নাই, আমি অ্যাপ্রুভ না করলে শো হবে না।

কিন্তু তারপরেও উপায় আছে আমাকে রিপোর্ট করার, মজার ব্যাপার হচ্ছে, এইটা করার জন্য যেই টেকনিক্যাল নলেজ লাগবে, আনফরচুনেটলি কামলা দের তা নাই। যদি তা থাকত, তারা কাতারের কামলা হয়ে থাকত না।

সো, ইন ইউর ফেস, কামলাস।

Tagged , , , ,

8 thoughts on “কাতারের কামলা

  1. আসলেই এইসব কামলাদের কারনে এখন টুইটারের পরিবেশ প্রায় দূষিত! সুন্দর লেখনি…

    1. আমিও কামলা but ওদের মতো আমলা না

      1. আমার তো আসল সমস্যা কামলা নিয়ে না, আমার সমস্যা এই আজাইরা পাবলিক গুলা নিয়ে।

  2. ? যতেষ্ট মজা পাইছি।
    আমি অনমুতি নিয়ে নিচ্ছি এই পোষ্ট টুইটারে শেয়ার করতে পারি, ধন্যবাদ।

  3. লিখার শুরুতে ঐ মুখোশধারী স্পর্শ ..তথা বাহরাইন এর একজন অবৈধ পারসন ..অথচ সেদিন অকারণে টুইটারে আমাকে ব্লক করে দলবল নিয়ে যোদ্ধ করেছে..তবে ইচ্ছা করলে রাগ করতে পারতাম কিন্তু পোলাপান( অকালপক্ষ) বলে কিছু বলিনি..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *